‘মিট্টি দিদি’ মাটি পরীক্ষার উদ্যোগের মাধ্যমে পেপসিকো ইন্ডিয়া বাংলায় টেকসই কৃষিকাজকে উৎসাহিত করছে

পুনর্জননশীল কৃষি ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারকে আরও একবার দৃঢ় করে, পেপসিকো ইন্ডিয়া আজ ঘোষণা করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি ‘মাটি যাচাইকরণ কেন্দ্র’ (মাটি পরীক্ষা করার কেন্দ্র) চালু হয়েছে। প্রশিক্ষিত মহিলাদের পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলি—যাঁদের সাধারণভাবে ‘মাটি দিদি’ নামে ডাকা হয়—কৃষকদের দ্রুত ও সহজে মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে তাঁদের জমির যত্ন আরও কার্যকরভাবে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই কেন্দ্র স্থাপনের পেছনে মূল ভাবনা ছিল কৃষকদের কাছে এমন নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর তথ্য পৌঁছে দেওয়া, যা তাঁদের মাটির গুণমান বুঝতে সাহায্য করবে। মাটির পুষ্টির গঠন, পিএইচ স্তর, ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য জানলে কৃষকরা ফসল ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ, ও মাটির পরিবর্ধনের বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই লক্ষভিত্তিক পদ্ধতি ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এই ভাবনাকে আবেগের সঙ্গে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পেপসিকো ইন্ডিয়ার লে’স® একটি কাব্যিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির চিঠি’ উন্মোচন করেছে। এটি মাটি তথা ধরিত্রী মাতার তরফ থেকে কৃষকের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি, যা এই নিঃশব্দ অথচ অটুট সম্পর্ককে এক মানবিক রূপ দেয়। মায়ের মেয়েকে লেখা চিঠির মতো, ধরিত্রী মা তার কৃতজ্ঞতা জানায়, মমতার বার্তা দেয় এবং ভারসাম্য ও যত্নের কথাগুলি কোমল ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। অনুভূতিপূর্ণ দৃশ্যপট ও কাব্যিক বর্ণনায় ফুটে ওঠে কৃষক ও মাটির মধ্যে গভীর, নিঃশব্দ এক আত্মিক সম্পর্ক—যা এই বার্তা দেয়: আমরা যখন পৃথিবীর যত্ন নিই, তখন সেই পৃথিবীও আমাদের যত্ন নেয়।

পেপসিকো ইন্ডিয়ার অ্যাগ্রো ডিরেক্টর অনুকূল জোশী বলেন, “কৃষির ক্ষেত্রে আমাদের সব কাজের সূচনাবিন্দু হল মাটি, আর এর সঠিক জ্ঞানই টেকসইভাবে উন্নত ফসল ফলানোর চাবিকাঠি। ‘মাটি যাচাইকরণ কেন্দ্র’-এর মাধ্যমে আমরা কৃষকদের কাছে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক মাটির বিশ্লেষণ সহজলভ্য করতে চাই, যা তাঁদের আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে—সে যতই সঠিক পুষ্টি বেছে নেওয়া হোক বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা। এই উদ্যোগ কৃষকদের উপযুক্ত জ্ঞান ও সরঞ্জাম দেওয়ার পথে আমাদের প্রতিশ্রুতিরই আরেকটি পদক্ষেপ। আর ‘মাটির চিঠি’ কৃষক ও জমির মধ্যকার সেই সম্পর্কের গভীরতাকে হৃদয়ছোঁয়া ভাষায় তুলে ধরেছে।”

বাঁকুড়া জেলার বালিথা গ্রামের কৃষক তপসী পাল জানান, “আমি গত দশ বছর ধরে পেপসিকোর চাষ সংক্রান্ত কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। এই বছর ‘মাটি দিদি’ প্রকল্পের মাধ্যমে আমার জমির মাটি পরীক্ষা করাই এবং সময়মতো রিপোর্টও পাই। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী আমি জমিতে সুপারিশকৃত মাত্রায় সার প্রয়োগ করি। এর ফলে আমার চাষের খরচ কমে যায় এবং মাটির স্বাস্থ্যও ভালো হয়। আমার ৪ কাঠা (0.08 একর) জমিতে, যেখানে রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ করেছি, সেখানে আমি ২৭ বস্তা চিপ-গ্রেড আলু তুলেছি। তুলনায়, যেখানে আমি আগের পদ্ধতিতে চাষ করেছি, সেখানে প্রতি কাঠায় (0.02 একর) মাত্র ৫ বস্তা পেয়েছি। পেপসিকোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমাদের কাছে মাটি পরীক্ষার সুবিধা এনে দিয়েছে।”

By Business Bureau