ভারতে, ফার্টিলিটি তখনই আলোচনায় আসে যখন কোনও দম্পতি গর্ভধারণের চেষ্টা করে। আলোচনায় এই বিলম্বের অর্থ হল অনেকেরই তাদের প্রজনন জীবন সম্পর্কে আগে থেকে জানার এবং প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হারানো। যেহেতু ফার্টিলিটি এডুকেশন আমাদের স্কুলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই বয়স, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার সমস্যা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফার্টিলিটিকে প্রভাবিত করতে পারে সে সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই ইয়ং অ্যাডাল্টদের বড় হতে হয়। এই আলোচনা শীঘ্রই শুরু করা উচিত, আদর্শভাবে তা কৈশোরের শেষের দিকে করা হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রচুর সুবিধা পাওয়া যায়। একজন মহিলার উর্বরতা তার ২০-র দশকের গোড়ার দিকে শীর্ষে পৌঁছে যায়, তবুও এটি এমন একটি সময় যখন বেশিরভাগই ক্যারিয়ারের দিকে মনোনিবেশ করে এবং স্বতন্ত্র লক্ষ্য অন্বেষণ করে। যখন পরিবার একটি অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে, তখন ফার্টিলিটির সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই হ্রাস পেতে শুরু করেছে। প্রারম্ভিক সচেতনতা তরুণদের তাদের প্রজনন সময়সূচী জানতে সাহায্য করে এবং তাদের জীবনের এজেন্ডা অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
এটা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ যে ফার্টিলিটির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা একা নারীর বোঝা নয়। সামাজিক আখ্যান অনুযায়ী শুধুমাত্র মহিলাদের উপরেই প্রজনন সমস্যার দায় চাপানোর প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুসারে, পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ফ্যাক্টরও ৪০-৫০% ক্ষেত্রে দায়ী। বয়স, স্থূলতা, ধূমপান এবং অ্যালকোহল এবং দুর্বল জীবনধারা সবই শুক্রাণুর গুণমান এবং উর্বর ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ফার্টিলিটির বিষয়ে এই ধরনের আলোচনা অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যার উদ্দেশ্য হবে পুরুষদের পরিবার পরিকল্পনায় অংশ নিতে এবং অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। শিক্ষা ছাড়াও, ফার্টিলিটি নিয়ে এই ধরনের প্রাথমিক কথোপকথন সময়মত চিকিৎসা হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। পিসিওএস, ডিম্বাশয়ে কম এগ রিজার্ভ, বা ক্ষয়প্রাপ্ত শুক্রাণুর প্যারামিটারকে শনাক্ত গেলে এবং তাকে প্রাথমিকভাবে পরিচালনা করা গেলে, তা পরবর্তীতে প্রাকৃতিক বা অ্যাসিসটেড গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে উন্নত করে।
যারা বিলম্বে সন্তান ধারণ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য, ডিম, শুক্রাণু বা ভ্রূণ জমা করার মতো ফার্টিলিটি প্রিসারভেশনের পদ্ধতি অতিরিক্ত ফ্লেক্সিবিলিটি প্রদান করে। বেশীরভাগ মানুষ উর্বরতা সম্পর্কে ভাবেন না যতক্ষণ না তাদের প্রয়োজন হয়, তবে এই সময়ের মধ্যে সুযোগ কমে যেতে পারে। আগে থেকে ফার্টিলিটি সম্পর্কে কথা বলা মানে কোনওদিনই তাড়াহুড়ো করে পদক্ষেপ নেওয়া বা সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং এটি আপনাকে বিভিন্ন অপশন সম্পর্কে জানার, উপযুক্ত প্রশ্ন করার এবং আপনার জন্য উপযুক্ত একটি ভবিষ্যত তৈরি করার স্বাধীনতা দেয়।
ডঃ সোনালী মণ্ডল বন্দ্যোপাধ্যায়, বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ, হাওড়ার ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ
