সত্যজিৎ থেকে ফেনেল—অ্যাডাপ্টেশনে স্বাধীনতা বনাম সমালোচনা

সাহিত্য থেকে সিনেমা তৈরি হলে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসে—মূল গল্প কতটা বদলানো যায়? এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পরিচালক Emerald Fennell তিনি Wuthering Heights অবলম্বনে তৈরি নিজের ছবির নামের দু’পাশে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করেছেন—“উদারিং হাইট্‌স”।
ফেনেলের বক্তব্য, তিনি মূল উপন্যাসের হুবহু রূপ দিচ্ছেন না, বরং নিজের কল্পনায় তৈরি একটি সংস্করণ তুলে ধরছেন। তাই এই উদ্ধৃতি চিহ্ন যেন আগেই দর্শককে জানিয়ে দেয়—এটি আসল গল্প নয়, তার একটি ব্যাখ্যা মাত্র।
এই প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, যদি সত্যজিৎ রায় একই কৌশল ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো তাঁর সিনেমাগুলি নিয়ে এত বিতর্ক হতো না। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘চারুলতা’ বা ‘পোস্টমাস্টার’-এর ক্ষেত্রে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।
একইভাবে সঞ্জয় লীলা ভানসালি-র ‘দেবদাস’ ছবিও মূল উপন্যাস থেকে অনেকটাই আলাদা হওয়ায় বিতর্কে জড়ায়। অনেকের মতে, নামের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন বা উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করলে দর্শকের প্রত্যাশা বদলাতে পারত।
তবে সব পরিচালক এই পথ নেন না। যেমন Guillermo del Toro তাঁর ‘Frankenstein’ ছবিতে মূল কাহিনি থেকে সরে এলেও নাম পরিবর্তন করেননি। আবার Joel Coen ‘Macbeth’ অবলম্বনে ছবি তৈরি করে নাম রেখেছিলেন ‘The Tragedy of Macbeth’, যা এক ধরনের নতুন ব্যাখ্যার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাহিত্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা বা ‘পুনর্নির্মাণ’ (adaptation) একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জার্মান চিন্তাবিদ Walter Benjamin ‘Nachleben’ বা পুনর্জীবনের ধারণা দিয়ে দেখিয়েছিলেন, একটি রচনা সময়ের সঙ্গে নতুনভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
তাই প্রশ্ন রয়ে যায়—উদ্ধৃতি চিহ্ন থাক বা না থাক, দর্শক কি প্রস্তুত মূল গল্পের বাইরে গিয়ে নতুন ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে? এই উত্তরই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতের সিনেমা কোন পথে

By nanika