মহিলাদের স্বাধীনতা, পিতৃতন্ত্র এবং নিজেদের পছন্দের জন্য তাঁদের যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, সেই বিতর্কে এ বার মুখ খুললেন অভিনেত্রী কৃতি সেনন। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাগ করে তিনি স্পষ্ট জানান, বিষয়টি ‘পুরুষ বনাম মহিলা’-র লড়াই নয়। বরং লড়াইটা পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সেই মানসিকতাকে সমর্থন করে চলা মানুষদের বিরুদ্ধে। বিহারের জমুইয়ে এক তরুণীর হেনস্থার ঘটনাকে ঘিরে যখন দেশ জুড়ে ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে, তখনই কৃতির এই পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে।
একটি পোস্ট নিজের সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন কৃতি। তাতে লেখা, “বন্ধুরা, এটা পুরুষ বনাম মহিলার লড়াই নয়। এটা মহিলাদের সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক, নারীবিদ্বেষী পুরুষ এবং সেই সব মগজধোলাই হওয়া মহিলাদের লড়াই, যাঁরা মনে করেন, পিতৃতন্ত্রই ঐতিহ্য।”
শুধু এই পোস্টই নয়, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং অভিনেত্রীদের পোশাক নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য তুলে ধরা একটি পোস্টে ‘লাইক’ করেছেন কৃতি। সেই পোস্টে লেখা ছিল, “এই দেশে ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা এবং পণপ্রথার কারণে মৃত্যুর ঘটনায় যতটা ক্ষোভ দেখা যায় না, তার থেকেও বেশি ক্ষোভ দেখা যায় কোনও উৎসবের বিজ্ঞাপনে একজন অভিনেত্রীর বক্ষবিভাজিকা দেখা গেলে— এটাই আমাদের মানসিকতার বিষয়ে অনেক কিছু বলে দেয়।”
বিহারের জমুইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে দেশ জুড়ে ক্ষোভের মধ্যেই কৃতির এই পোস্ট নজর কেড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর জমুইয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী এবং তাঁর এক সহপাঠীকে একদল যুবক আটকে রেখে মারধর ও হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ভিডিয়োও করা হয় এবং পরে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই পুলিশ পদক্ষেপ করে এবং বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়।
যদিও নিজের পোস্টে কৃতি সরাসরি জমুইয়ের ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর পোস্ট এবং যে পোস্টে তিনি ‘লাইক’ করেছেন, দু’টিই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চলা নারী নিরাপত্তা ও সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সময় সামনে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে রাখিবন্ধনের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কৃতি। বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। উৎসবের বিজ্ঞাপনে ‘ছোট’ পোশাক বেছে নেওয়া নিয়েই সমাজমাধ্যমের একাংশ প্রশ্ন তোলে। বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়তে থাকায় পরে সেই বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
