লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট দাবি পরিশোধের পরিমাণ ₹৬.৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী মূল্য তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে জীবন বিমা ইন্ডাস্ট্রি

ভারতের জীবন বিমা (লাইফ ইন্স্যুরেন্স) ইন্ডাস্ট্রি জীবন বিমা পণ্যগুলিকে আরও ব্যাপক এবং ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, এই পণ্যগুলির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুবিধাগুলি ‘মিস-সেলিং’-এর মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জীবন বিমার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিমা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এই আবেদন জানানো হয়েছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিলের অধীনে কর্মরত ‘ইন্স্যুরেন্স অ্যাওয়ারনেস কমিটি-লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ (IAC-Life) জানিয়েছে যে, জীবন বিমাকে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী রিটার্ন বা আয়ের নিরিখে বিচার না করে, একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত। কমিটির মতে, এই খাতটি আর্থিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সুরক্ষা এবং সুশৃঙ্খল সঞ্চয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিয়ে চলেছে।

আইএসি-লাইফ (IAC-Life)-এর চেয়ারম্যান কমলেশ রাও বলেন, “জীবন বিমার মূল উদ্দেশ্যই হলো আর্থিক নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং সুশৃঙ্খল সঞ্চয়ের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের সঠিক মূল্য বা সুবিধা দেওয়া।” ভুল তথ্য দিয়ে বিমা বিক্রির বা মিস-সেলিংয়ের ঘটনা যে ঘটে এবং সে বিষয়ে যে ইন্ডাস্ট্রির নজর দেওয়া প্রয়োজন—তা স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি রাও বলেন, কোটি কোটি পলিসিহোল্ডারদের পরিষেবা দেওয়া এই বিশাল ব্যবস্থার মধ্যে এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত সামান্য অংশ। কমিটি এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে যে, জীবন বিমা হলো একমাত্র আর্থিক মাধ্যম যা গ্রাহকদের একটি ‘ফ্রি-লুক পিরিয়ড’ বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পলিসি যাচাই করার সুযোগ দেয়। এর ফলে পলিসিহোল্ডাররা যদি দেখেন যে পলিসিটি তাদের প্রয়োজন পূরণ করছে না, তবে তারা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেটি পর্যালোচনা করে ফেরত দিতে পারেন। কমিটি আরও যোগ করেছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই শিল্প ক্ষেত্রটি ডেথ ক্লেম, ম্যাচিউরিটি, অ্যানুইটি এবং উইথড্রয়াল সহ সব মিলিয়ে ₹৬.৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি দাবি পরিশোধ করেছে।

অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে আর্থিক সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে গুয়াহাটিতে বিমা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা লক্ষ্য করেছেন যে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি, আর্থিক স্বাক্ষরতার প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা আরও বেশি সংখ্যক উপভোক্তাকে জীবন বিমার কথা ভাবতে উৎসাহিত করছে। এই অঞ্চলটিতেও দেশের বাকি অংশের মতোই একটি বড় ‘সুরক্ষা ঘাটতি’-র চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। আইএসি-লাইফ উল্লেখ করেছে যে, ৮৭% ভারতীয় এখনও জীবন বিমার সুরক্ষা ঘাটতির সম্মুখীন, এবং ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৯০%-এরও বেশি। ২০১৯ সালে গঠিত এই কমিটিতে ২৪টি জীবন বিমা কোম্পানি একসঙ্গে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং জীবন বিমা পণ্যগুলি সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়া উন্নত করা।

By Business Bureau