‘প্রজাপতি ২’ দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। ছবিটির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে তার আবেগ ও সম্পর্কের বুননে। এটি এমন এক চলচ্চিত্র, যা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে দেখার মতো। বর্তমান সময়ে যখন সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, তখন এই ধরনের পারিবারিক গল্প দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
শিশুশিল্পী অনুমেঘা কাহালির অভিনয় ছবির অন্যতম সম্পদ। কোনও বাড়াবাড়ি বা কৃত্রিমতা ছাড়াই তার স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকের মন ছুঁয়ে যায় এবং ছবির আবহকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
নায়ক দেবকে দেখা যায় একেবারে নতুন রূপে— আরও পরিণত ও সংযত। নায়কসুলভ দাপটের বদলে এখানে তাঁর অভিনয়ে রয়েছে দায়িত্ববোধ ও সংবেদনশীলতা। অপরাজিতা আঢ্য, মিঠুন চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকে নিজেদের চরিত্রে অনবদ্য। ছোট চরিত্রে হলেও পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ‘প্রজাপতি ২’ প্রশংসার দাবি রাখে। ক্যামেরার কাজ ও এডিটিং সাবলীল, যা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। গানগুলো শুধু শোনার জন্য নয়, গল্পের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। সংলাপ সহজ হলেও অর্থপূর্ণ।
কিছু দর্শকের কাছে ছবিটি খানিকটা মেলোড্রামাটিক মনে হতে পারে, তবে এই আবেগই ছবির প্রাণ। বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে ‘প্রজাপতি ২’ হাসি, কান্না আর সম্পর্কের উষ্ণতা মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা দেয়।
