আলমারিবন্দি শীতের পোশাক আলো দেখতে শুরু করেছে। বড়দিন থেকে বর্ষপূর্তি, নতুন বছরের শুরু— একটানা নানাবিধ উপলক্ষে একের পর এক পার্টির নিমন্ত্রণ। আপনি পোশাকও কিনবেন, পুরনো পোশাক দিয়ে লেয়ারিংও করবেন। হয়তো রংও স্থির করে ফেলেছেন। কিন্তু নতুন কোনও রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করছেন। আনন্দবাজার ডট কম-এর জন্য পোশাকশিল্পী অভিষেক দত্ত নিজের তৈরি নানা জিনিসে সাজালেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। এ বারের শীতে কত রকমের রং সাজে ব্যবহৃত হতে পারে, তারই ঝলক দিতে চাইলেন অভিষেক।
শীত পড়লেই গাঢ় রঙের প্রতিপত্তি বাড়ে। যে দিকেই তাকান, হয় কালো, নয়তো বাদামি বা মেরুন। কিন্তু ফ্যাশনদুনিয়ায় পরীক্ষার শেষ নেই। বিদেশের একাধিক ফ্যাশন উইকে এ বার নিয়ন রং এবং প্রাইমারি রঙের দাপট দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ লাল, সবুজ, নীলের কদর বেড়েছে, তা হলে সাদাই বা কেন পিছিয়ে থাকবে? অভিষেক বলছেন, ‘‘বছরের শেষে পার্টির মরসুম। আর সে সময়ে ক্রিসমাসের রঙেই ভরে থাকে শহর থেকে শহরতলি। লাল, গাঢ় নীল-সবুজের (টিল রং) নানা রকম টোন, কালো ও ছাই রঙের আধিক্য এ সময়ে অনেক বেশি।’’ কিন্তু উৎসব মানেই যে রং। আর রঙের খেলা রয়েছে আপনারই হাতে। তাই কালো থেকে সাদা, লাল থেকে সবুজ, সব রকম রংকেই গুরুত্ব দিতে বলছেন শিল্পী।
শীতের দুপুরে বাইরে খাওয়াদাওয়া করতে গেলে বা দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গেলে খানিক হালকা রঙের উপর ভরসা করতে পারেন। ঠিক যেমন ভাবে সাদা আর মভ রঙের পোশাক পরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ‘উইন্টার ব্রাঞ্চেস’ থিম এখন সাজসজ্জার দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আর তাই সে কথা মাথায় রেখে প্রিয়াঙ্কা সেজেছেন প্যান্ট স্যুটে।
এমব্রয়ডারি করা লম্বা সাদা জ্যাকেটে কাঁধের কাছে থ্রিডি লেদার ফুল বসানো হয়েছে। তার সঙ্গে মানানসই সুতোর কাজ করা বুটকাট প্যান্ট এবং নীচে একটি লেদার বাস্টিয়ার। একসঙ্গে আরামদায়ক এবং কেতাদুরস্ত। অভিষেক মনে করেন, শীতের মরসুম হল লেয়ারিংয়ের সেরা সময়। রকমারি জ্যাকেটের দেখা পাওয়া যায় এ সময়ে। ট্রাউজ়ার্স থেকে স্কার্ট, শর্টস থেকে ড্রেস— সব কিছুর সঙ্গেই জ্যাকেট পরা যেতে পারে। শল কলার জ্যাকেট, জ্যাকেট ড্রেস এখন ২০২৫-এর ফ্যাশন ট্রেন্ডে রাজত্ব করছে বলে মত পোশাকশিল্পীর।
প্যান্ট স্যুটের রঙের প্যালেটটি এমনই স্নিগ্ধ যে শীতের দুপুরের রোদে চোখেও আরাম দেবে। অফ হোয়াইট এবং ল্যাভেন্ডার রঙের মিশ্রণ দিনের বেলার অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত। এই জ্যাকেটটি নানা ভাবে পরা যাবে। প্যান্টের পরিবর্তে সিক্যুইনড ড্রেসের সঙ্গেও পরা যেতে পারে। আবার স্কার্টের সঙ্গেও মানিয়ে যাবে। সম্পূর্ণ দৃশ্যমান বাস্টিয়ারে স্বচ্ছন্দ হলে জ্যাকেটের বোতামটিও খুলে রাখা যেতে পারে।
সঙ্গে হালকা মেকআপ আর যৎসামান্য অলঙ্কার দিয়ে সেজে নিতে পারেন। প্রিয়াঙ্কা যেমন সাদা রঙের ঝোলা দুল পরেছেন, আপনি মভ দুলেও সাজতে পারেন। কেউ কেউ আবার একেবারেই গয়নাগাঁটি পছন্দ করেন না। কেবল গাঢ় লিপস্টিক আর হালকা মেকআপ দিয়ে সাজ সম্পূর্ণ করতে চান। কেউ চুল খোলা রাখেন, কেউ বা পনিটেল করে নেন।
তবে বছরের শেষে নৈশপার্টি নিয়ে মাতামাতি থাকেই। ২৪ ডিসেম্বর রাত হোক বা ৩১ ডিসেম্বর। সারা বছর যে বাঙালি শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবীর উপর ভরসা রেখে সাজগোজ করেন, তাঁদের জন্য এ সময়টা হল নতুন কিছু সাজার সুযোগ। পাশ্চাত্যের সাজের প্রভাব পড়ে এ সময়ে। তার উপর গত বেশ কয়েক বছর যে ভাবে বাহুল্যবর্জিত সাজের চল বেড়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ফ্যাশনদুনিয়া। বাহুল্যযুক্ত, অতিরিক্ত সাজের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।
