লালবাগচা রাজার লাইনে সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে রাজপাল যাদব, নজর কাড়ল তাঁর সিদ্ধান্ত

লালবাগচা রাজার দর্শনে তারকার ভিড় নতুন নয়। তবে এ বার নজর কাড়ল রাজপাল যাদবের একটি সিদ্ধান্ত। ভিআইপি ব্যবস্থা এড়িয়ে সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে লাইনেই দাঁড়িয়ে পড়লেন অভিনেতা। মাথার উপর গনগনে রোদ, চারপাশে ভক্তদের ভিড়— তবু বেশ হাসিমুখেই নিজের পালার অপেক্ষা করতে দেখা গেল তাঁকে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ দর্শনার্থীদের সঙ্গে সারিতে দাঁড়িয়ে ‘গণপতি বপ্পা মোর‌্যা’ ধ্বনি দিচ্ছেন রাজপাল। কখনও আশপাশের ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছেন, কখনও আবার হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁকে চিনে ফেলার পরে অনেকেই মুঠোফোনে মুহূর্তটি ধরে রাখেন। কিন্তু তাতে বিশেষ বিচলিত হতে দেখা যায়নি অভিনেতাকে। বরং সকলের সঙ্গে স্বচ্ছন্দেই অপেক্ষা করেছেন দর্শনের জন্য।

মুম্বইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় গণেশপুজো লালবাগচা রাজা। গণেশোৎসবের কয়েক দিন ধরে এখানে ভক্তদের ঢল নামে। চলতি বছরও বলিউডের একাধিক তারকা গণেশ দর্শনে হাজির হয়েছেন। শাহরুখ খান, রণবীর সিংহ, সঞ্জয় দত্ত, পরিণীতি চোপড়া, শিল্পা শেট্টী, তাপসী পন্নু, অনন্যা পাণ্ডে, চাঙ্কি পাণ্ডে-সহ একাধিক তারকাকে দেখা গিয়েছে লালবাগচা রাজার পুজোয়।

প্রসঙ্গত, রাজপালের এই সফর অবশ্য এমন এক সময়ে, যখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে চলছে দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনও। একাধিক চেক বাউন্স মামলায় বকেয়া টাকা মেটানো নিয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালত তাঁকে বকেয়া মেটানোর বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছে। পাশাপাশি আদালতের রেজিস্ট্রিতে দু’কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালের একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, একটি ছবির জন্য রাজপালকে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে টাকা ফেরানোর বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে সাতটি চেক দেওয়া হয়, প্রতিটির অঙ্ক ছিল ১.০৫ কোটি টাকা। অভিযোগকারীর দাবি, সেই চেকগুলি বাউন্স করে। ২০১২ সালের একটি চুক্তির ভিত্তিতে রাজপাল, তাঁর স্ত্রী রাধা যাদব এবং তাঁদের সংস্থার উপর সুদ-সহ প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরতের দায় ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে চেক বাউন্সের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে সেই সাজা কমিয়ে তিন মাস করে দায়রা আদালত। চলতি বছরের ১০ জুলাই দিল্লি হাই কোর্টও সাতটি চেক বাউন্স মামলায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে এবং তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

By Paromita