লাইভ ভিডিও চলাকালীন দিল্লি-মেরুট এক্সপ্রেসওয়েতে ফরচুনার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের দুর্ঘটনা: আত্মহত্যার চেষ্টা বলে সন্দেহ পুলিশের

দিল্লি-মেরুট এক্সপ্রেসওয়েতে এক চাঞ্চল্যকর সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তার দ্রুতগামী ফরচুনার গাড়িটি ডিভাইডারের সাথে সজোরে ধাক্কা মেরে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সবচাইতে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, এই পুরো ঘটনাটি উক্ত ইনফ্লুয়েন্সার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে লাইভ স্ট্রিমিং করছিলেন, যার ফলে তার হাজার হাজার অনুসারী সরাসরি এই ভয়াবহ দৃশ্যটি দেখতে পান। ভিডিওতে দেখা যায় যে, গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলছিল এবং এক পর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি উল্টে দুমড়ে মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ট্রাফিক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজিয়াবাদ পুলিশ ধারণা করছে যে, এটি সাধারণ কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত আত্মহত্যার চেষ্টা হতে পারে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে লাইভ ভিডিওতে ওই ইনফ্লুয়েন্সারকে অত্যন্ত বিমর্ষ দেখাচ্ছিল এবং তিনি জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা প্রকাশ করে কিছু অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক্সপ্রেসওয়ের ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎ করেই গাড়িটির গতি বাড়িয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি কংক্রিটের ব্যারিয়ারে আঘাত করেন, যা আত্মহত্যার সন্দেহে জোরালো ভিত্তি দিচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে তার মোবাইল ফোন এবং লাইভ ভিডিওর ফুটেজটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে কোনো মানসিক অবসাদ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখছে।

এই ঘটনার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে লাইভ স্ট্রিমিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা এই ঘটনার ভয়াবহতায় স্তম্ভিত হয়ে গেছেন এবং দ্রুতগতির রাস্তায় এমন বিপজ্জনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ যৌথভাবে এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়। অন্যদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তার শরীরে একাধিক হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর চোট রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, তিনি সুস্থ হওয়ার পর তার জবানবন্দি নেওয়া হবে এবং যদি এটি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করার চেষ্টা হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

By anuprova