বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এএসসিআই’-এর রিপোর্ট ‘দি হিট ইজ অন’

অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন মেয়াদে গ্রীষ্মকালীন ৪০টি বিজ্ঞাপনের উপর সমীক্ষা চালিয়ে ‘দি হিট ইজ অন’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সংস্থাতর হস্তক্ষেপে ৩৯টি বিজ্ঞাপনেই সংশোধনের প্রয়োজন পড়েছে। ২১টি বিজ্ঞাপন কোনও আপত্তি ছাড়াই বিজ্ঞাপনদাতারা সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ১৮টি বিজ্ঞাপন নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে কনজিউমার কমপ্লেন্টস কাউন্সিলের পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে। ১টি মাত্র বিজ্ঞাপন নিজের করা দাবির সপক্ষে সঠিক প্রমাণ দিতে পেরেছে। সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা এবং ত্বকের তামাটে ভাব দূর করার বিজ্ঞাপনগুলোতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও নীতি লঙ্ঘন দেখা গিয়েছে। এর পরেই রয়েছে ঘর ঠান্ডা রাখা, বাতাস বিশুদ্ধকরণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তৈরি হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং গৃহসজ্জার সামগ্রী।

বিজ্ঞাপনে তাত্ক্ষণিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির অতিরঞ্জিত দাবি ব্যাপক আকারে লক্ষ্য করা গিয়েছে, যেমন “৩০ সেকেন্ডে ট্যান দূর করে উজ্জ্বলতা পান”, “৫ দিনে দৃশ্যমান পরিবর্তন” এবং “২ মিনিটে জেদি ট্যান সরান”। যেসব বিজ্ঞাপনদাতা এসব দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিজ্ঞাপনগুলো সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় ছিল শিশুদের ত্বক ফর্সা ও ট্যান দূর করার পণ্যের প্রচার। ১৪টি বিজ্ঞাপনে বাবা-মায়ের নিরাপত্তাহীনতাকে পুঁজি করে বর্ণবৈষম্যমূলক কুসংস্কার উসকে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া সানস্ক্রিন জ্যাকেট, কুলিং পোশাক, এসি বা এয়ার পিউরিফায়ারকে ইউভি রশ্মি, দূষণ ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী স্বাস্থ্য সমাধান বলা হলেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।

নীতিমালা লঙ্ঘনের মূল ত্রুটিগুলি হলো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ছাড়াই অতিরঞ্জিত দাবি প্রকাশ, তথ্যের সত্যতা প্রমাণের অনুরোধে সাড়া না দেওয়া, বাজারের সেরা বা এক নম্বর হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণের ঘাটতি, ইনফ্লুয়েন্সার ও তারকাদের যথাযথ যাচাই ছাড়া বিজ্ঞাপন করা। কাউন্সিলের সিইও মনীষা কাপুর জানান, উদ্ভাবন প্রশংসনীয় হলেও গ্রীষ্মকালীন বিজ্ঞাপনে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। দায়িত্বশীল বিজ্ঞাপন বিভ্রান্তি দূর করে ব্র্যান্ডের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা বজায় রাখে।

By Business Bureau