যশোদা হাসপাতাল সোমাজিগুডা পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের ১৮ বছর বয়সি রোগীর জটিল ট্রোক্লিয়ার ডিসপ্লাসিয়ার সফল অস্ত্রোপচারে হাঁটুর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দিল

হায়দরাবাদের সোমাজিগুডায় অবস্থিত যশোদা হাসপাতালের অর্থোপেডিক স্পাইন সার্জারি বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের ১৮ বছর বয়সী এক রোগীর জটিল হাঁটু সংরক্ষণ অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। রোগী জন্মগত ট্রোক্লিয়ার ডিসপ্লাসিয়া-জনিত বাম হাঁটুর বারবার অস্থিরতার সমস্যায় ভুগছিলেন। হাঁটুর এই জন্মগত গঠনগত ত্রুটির কারণে বারবার হাঁটুর ক্যাপ (প্যাটেলা) স্থানচ্যুত হয়ে যেত। এছাড়া পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর ব্যথা ও অস্থিরতায় ভুগছিলেন, যা তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরা ও জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা গুরুতর ট্রোক্লিয়ার ডিসপ্লাসিয়া শনাক্ত করেন এবং বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কপি , ট্রোক্লিওপ্লাস্টি এবং মিডিয়াল প্যাটেলোফেমোরাল লিগামেন্ট  রিপেয়ার-এর সমন্বিত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন ডাঃ সুনীল দাচেপল্লি, ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক, রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, শোল্ডার, স্পোর্টস মেডিসিন ও ট্রমা সার্জন, যশোদা হাসপাতাল, সোমাজিগুডা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডাঃ মধু কিরণ ইয়ারলাগাড্ডা, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক স্পাইন সার্জন। এছাড়া অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন ডাঃ শ্রীনিবাস এবং ডাঃ লোকেশ কুমার গুপ্তা। অস্ত্রোপচারের সময় হাঁটুর অস্বাভাবিক ট্রোক্লিয়ার গ্রুভের আকৃতি সংশোধন করে প্যাটেলার স্বাভাবিক চলাচলের পথ নিশ্চিত করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত লিগামেন্ট পুনর্গঠন করে হাঁটুর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং নির্ধারিত পুনর্বাসন পরিকল্পনাসহ স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পান।

এই বিষয়ে ডাঃ সুনীল দাচেপল্লি বলেন,

“ট্রোক্লিয়ার ডিসপ্লাসিয়া কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বারবার প্যাটেলা স্থানচ্যুত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। শুধুমাত্র লিগামেন্টের চিকিৎসা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না, কারণ মূল গঠনগত ত্রুটি থেকেই যায়। ট্রোক্লিওপ্লাস্টি এবং এমপিএফএল  রিপেয়ারের সমন্বিত পদ্ধতিতে গঠনগত ত্রুটি ও লিগামেন্টের দুর্বলতা—উভয় সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব। এর ফলে হাঁটু স্থিতিশীল হয়, কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং রোগী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো অস্ত্রোপচার ভবিষ্যতে কার্টিলেজের ক্ষয় এবং অকাল আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” যশোদা হাসপাতাল প্রমাণভিত্তিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, মিনিমালি ইনভেসিভ আর্থ্রোস্কপি, রোবোটিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক পুনর্বাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসা প্রদান করে চলেছে। জটিল হাঁটু সংরক্ষণ অস্ত্রোপচার ও স্পোর্টস ইনজুরি চিকিৎসায় বিশেষ দক্ষতার মাধ্যমে হাসপাতালটি রোগীদের চলাফেরার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, ব্যথা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্টের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

By Business Bureau