রাহুলের মৃত্যুতে কঠোর অবস্থানে আর্টিস্ট ফোরাম: শনিবার পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রসেনজিৎ-শান্তিলালরা

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা টলিউডকে। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল ‘আর্টিস্ট ফোরাম’। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন রাহুলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার পুলিশের দ্বারস্থ হতে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়রা। শুক্রবার রাতে এক জরুরি বৈঠকের পর ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারই তারা থানায় এফআইআর দায়ের করবেন।

শুক্রবার রাত পৌনে ১১টায় আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল ও শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের মতো চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। বৈঠক শেষে ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-কে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত শনিবার দুপুর ২টো নাগাদ রিজেন্ট পার্ক থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হবে।

অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেন, “যে চলে গিয়েছে তাকে তো আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু রাহুলের ছেলে সহজ যেন বড় হয়ে জানতে পারে তার বাবা কেন চলে গিয়েছিল। আমরাও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি।” তিনি আরও জানান, আইনি পরামর্শ নেওয়ার কারণেই পদক্ষেপ নিতে তিন দিন সময় লেগেছে।

উল্লেখ্য, ৪৩ বছর বয়সী রাহুল ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, কোনো রকম পুলিশি অনুমতি ছাড়াই সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলছিল। সমুদ্রের জলে ডুবেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হলেও, কেন এবং কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

শনিবার অভিনেতা রাহুলের স্মরণে বিকাল ৪টের সময় একটি পদযাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো পর্যন্ত এই পদযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সেখানে প্রয়াত অভিনেতার লেখা গল্প ও কবিতা পাঠের মাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। আর্টিস্ট ফোরামের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সহকর্মীর অকাল মৃত্যুর বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না।

By nanika