বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী এবং বনি কাপুরের প্রেম ও বিয়ে সেই সময়ে বিনোদন জগতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পুরোনো স্মৃতি এবং মানুষের কটু মন্তব্য আজও তাঁদের সন্তানদের মনে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শ্রীদেবীর বড় মেয়ে জাহ্নবী কাপুর তাঁর মায়ের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। জাহ্নবী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জানান যে, বনি কাপুরের সঙ্গে বিয়ের পর সাধারণ মানুষ শ্রীদেবীকে ‘হোমব্রেকার’ বা ‘ঘরভাঙানি’ তকমা দিয়েছিল। বনি কাপুর তাঁর প্রথম স্ত্রী মোনা শৌরিকে ছেড়ে শ্রীদেবীকে বিয়ে করায় জনমানসে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব শ্রীদেবীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা গভীর ছিল, তা আজ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন জাহ্নবী। তিনি জানান, এই ধরণের নিষ্ঠুর সমালোচনা শ্রীদেবীকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে এবং এটি তাঁর মনের ওপর এক বিশাল বোঝা হয়ে চেপে বসেছিল।
জাহ্নবী কাপুরের মতে, তাঁর মা একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ ছিলেন এবং বাইরের জগতের এই কঠোর বিচার তাঁকে প্রতিনিয়ত ব্যথিত করত। যদিও পর্দায় তিনি ছিলেন ‘চাঁদনি’ বা ‘হাওয়া হাওয়াই’-এর মতো প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী চরিত্র, কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তিনি এই সামাজিক গঞ্জনার শিকার হয়ে অন্তর্মুখী হয়ে পড়েছিলেন। জাহ্নবী উল্লেখ করেন যে, শ্রীদেবী সবসময় চাইতেন তাঁর মেয়েরা যেন একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বড় হয়, যেখানে বাইরের এই নোংরা রাজনীতি বা অতীতের বিতর্ক তাঁদের স্পর্শ করতে না পারে। কিন্তু একজন পাবলিক ফিগার হওয়ার কারণে মায়ের সেই লড়াই সন্তানদের অগোচরে থাকেনি। জাহ্নবী বলেন, যখন কোনো মানুষ প্রেমের টানে কোনো সিদ্ধান্ত নেন, সমাজ প্রায়ই তার পেছনের আবেগ না বুঝে কেবল বিচার করতেই ব্যস্ত থাকে। শ্রীদেবীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি, যার ফলে তাঁকে এক ধরণের অপরাধবোধ এবং মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে জাহ্নবী কাপুর তাঁর মায়ের সেই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে বলেন যে, মানুষ কোনো নারীর চরিত্র নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করে না। শ্রীদেবী তাঁর অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জয় করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে সারাজীবন ‘অন্যের ঘর নষ্ট করার’ অপবাদ শুনতে হয়েছে। জাহ্নবী মনে করেন, এই ধরণের শব্দ বা তকমা কোনো মানুষের ব্যক্তিত্বকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। শ্রীদেবীর অকাল প্রয়াণের পর তাঁর জীবনের এই না বলা যন্ত্রণার কথা শেয়ার করে জাহ্নবী মূলত ভক্তদের কাছে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, পর্দার পেছনের মানুষটিরও রক্ত-মাংসের হৃদয় থাকে এবং সেখানেও কষ্টের ছাপ পড়ে। মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রীদেবী কেবল একজন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন যোদ্ধা যিনি সমস্ত গঞ্জনা সহ্য করেও নিজের সংসার ও সন্তানদের আগলে রেখেছিলেন। জাহ্নবীর এই মন্তব্য বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং শ্রীদেবীর জীবনের এক ট্র্যাজিক সত্যকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
