বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ১০৫-তম জন্মদিনে আজ উৎসবের মেজাজ তিলোত্তমায়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিশপ লেফরয় রোডের রায় বাড়িতে সকাল থেকেই অনুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ভিড় উপচে পড়েছে। ‘৮ থেকে ৮০’— সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে আরও একবার প্রমাণিত হলো যে, বাঙালির হৃদয়ে সত্যজিৎ রায় আজও সমভাবে উজ্জ্বল।
এদিন সকাল থেকেই রায় বাড়ির দরজা ছিল সবার জন্য অবারিত। মালদহ, বর্ধমান, চন্দননগর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ছুটে এসেছেন তাঁদের প্রিয় ‘মানিকদা’কে শ্রদ্ধা জানাতে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের। বাড়ির প্রবেশপথ থেকে শুরু করে চারতলা পর্যন্ত ছিল দীর্ঘ লাইন। আগত দর্শনার্থীরা সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে মাল্যদান করেন এবং তাঁর কর্মজীবন ও সৃষ্টিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রথা মেনে এদিন আগত সকল অনুরাগী ও অতিথিদের স্বাগত জানান সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায়। তিনি ধৈর্য ধরে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নানা কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দেন। আগতদের জন্য ছিল মিষ্টিমুখের বিশেষ ব্যবস্থাও। সন্দীপ রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, প্রতি বছর এই দিনটি তাঁদের কাছে এক মিলন উৎসবে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষের এই অফুরন্ত ভালোবাসা দেখে বোঝা যায়, সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ও সাহিত্য আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একইভাবে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। কলকাতার রাজপথ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক মহল— সর্বত্রই আজ কেবল মহারাজার বন্দনা।
