বলিউড অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডী সম্প্রতি নিজের শৈশবের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন, যা আজও তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের আনন্দ দিলেও, একসময় আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে সমীরা জানান, ছোটবেলায় তাঁর কথা বলার সমস্যা ছিল এবং তিনি তোতলাতেন। এই কারণে স্কুলে সহপাঠীদের কাছ থেকে প্রায়ই কটাক্ষ ও উপহাসের শিকার হতে হত। “আমাকে অনেকেই দুর্বল ভাবত, বন্ধুরা নানা নামে ডাকত, এমনকি ‘বুদ্ধু’ বলেও ব্যঙ্গ করত,” বলেন অভিনেত্রী।
এই ধরনের অভিজ্ঞতা শিশুমনে গভীর প্রভাব ফেলে—এ কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন সমীরা। তিনি জানান, সেই সময়ের অপমান ও অস্বস্তি এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আজও কখনও কথা বলতে গিয়ে শব্দ জড়িয়ে গেলে অস্বস্তিতে পড়ে যান, বিশেষ করে কেউ সেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
কিছুদিন আগে হৃতিক রোশন-ও তাঁর শৈশবের অনুরূপ সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, যেখানে আত্মবিশ্বাসের অভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছিল। সমীরার অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনে—শৈশবের মানসিক আঘাত দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সমীরা আরও বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে এবং তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই তিনি এখন নিজের সন্তানদের বড় করছেন আরও সংবেদনশীলভাবে—তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে।
এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সমীরা এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। উপহাস নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সমর্থন, যাতে তারা নিজের পরিচয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে।
আত্মবিশ্বাসের লড়াই: শৈশবের কষ্টের কথা বললেন সমীরা
