বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের জীবন মানেই রাজকীয় আভিজাত্য। কিন্তু সেই আভিজাত্যের ছোঁয়া যে শুধু তাঁর পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রমাণ দিলেন শাহরুখের প্রাক্তন দেহরক্ষী ইয়াসিন খান। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশক শাহরুখের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসিন জানিয়েছেন, বলিউডের কিং খানের সঙ্গে কাজ করতে এসে কীভাবে তাঁর জীবন আমূল বদলে গিয়েছিল।
ইয়াসিনের কথায়, শাহরুখের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি প্রায় সারা পৃথিবী ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। বেতন হয়তো কোটি কোটি টাকা ছিল না, কিন্তু অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি যা পেয়েছেন, তা অমূল্য। শাহরুখের জন্যই ইয়াসিন জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত বিমানে (প্রাইভেট জেটে) বিশ্বভ্রমণ এবং নামী পাঁচতারা হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতাও তাঁর হয়েছে। ইয়াসিন সগর্বে জানান, শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার সুবাদেই আজ তাঁর পাসপোর্টে বিশ্বের আটটি দেশের স্ট্যাম্প রয়েছে।
পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও শাহরুখকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে ইয়াসিনের। তিনি জানান, পর্দার সুপারস্টার শাহরুখ ব্যক্তিগত জীবনে একজন অসাধারণ পিতা। আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামের প্রতি শাহরুখের কর্তব্যবোধ ইয়াসিনকে মুগ্ধ করত। শত ব্যস্ততা বা ক্লান্তি থাকলেও শাহরুখ নিজেই সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিতেন। এমনকি সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কোনো আপস করতেন না তিনি; নিজে আগে সবটা পড়ে নিতেন এবং তারপর সন্তানদের পড়াতে বসতেন। স্কুলের খেলাধুলার অনুষ্ঠানেও বাবার উপস্থিতি থাকত নিশ্চিত।
ইয়াসিন আরও জানান, শাহরুখ প্রতি বছর কাজের ফাঁকে দু’মাসের জন্য বিরতি নিতেন এবং সেই সময়টা পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে কাটাতেন। ইয়াসিনের মতে, শাহরুখের জীবন যেমন ছিল, সেই ১০ বছর তাঁর জীবনও প্রায় একই ছন্দে কেটেছে। একজন অভিভাবকের মতো শাহরুখ তাঁর কর্মীদের আগলে রাখতেন। প্রাক্তন দেহরক্ষীর এই আবেগঘন স্মৃতিচারণ আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, শাহরুখ খান কেন পর্দার বাইরেও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় ‘বাদশা’ হয়ে বিরাজ করেন।
