বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সুনীতা আহুজা। কিন্তু তাতেই কি গোবিন্দ-সুনীতার দাম্পত্য-জটিলতার ইতি? আপাতত তেমনটা মনে হচ্ছে না। বরং মামলা প্রত্যাহারের পরেই নতুন করে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন অভিনেতা-পত্নী।
মামলা প্রত্যাহারের কারণ নিয়ে সুনীতার বক্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি, আলোকচিত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাখি সাওয়ন্ত ফোন করেন সুনীতাকে। ফোনটি স্পিকারে রেখেছিলেন রাখি। সেখানেই সুনীতার দাবি, গোবিন্দ এবং অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকার নাকি বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। সেই কারণেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তুলে নিয়েছেন বলে জানান সুনীতা।
উল্লেখ্য, গোবিন্দ ও কোমলকে বিমানবন্দরে একসঙ্গে দেখার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন দেন সুনীতা নিজেই। স্বামীকে কটাক্ষ করে তিনি কোমলের ‘সুগার ড্যাডি’ বলেও মন্তব্য করেন।
রাখি অবশ্য এই মুহূর্তে সুনীতার পাশে। ফোনের কথোপকথনে তাঁকে আর্থিক দিকটিও মাথায় রাখার পরামর্শ দেন রাখি। গোবিন্দের বিপুল সম্পত্তির প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য, অন্য কেউ এসে যাতে সেই সম্পত্তির উপর দাবি না করতে পারেন। সুনীতার উচিত আগে নিজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১৯ অগস্ট মুম্বইয়ের বান্দ্রার পারিবারিক আদালতে ছেলে যশবর্ধনের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন সুনীতা। পরে গোবিন্দের ম্যানেজার শশী সিংহ জানান, প্রায় দু’বছর ধরে চলা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন সুনীতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘যদি শেষপর্যন্ত মামলা তুলে নেওয়াই হয়, তা হলে দায়ের করা হয়েছিল কেন?’’
গোবিন্দও চুপ করে থাকেননি। ছবিশিকারিদের মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিয়োবার্তায় তিনি সুনীতার ভাষা নিয়ে আপত্তি জানান। বিশেষ করে মা-বোনকে নিয়ে অশালীন শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেন স্ত্রীকে। তাঁর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম তারকাদের আচরণ অনুসরণ করে— তাই প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।
অর্থাৎ, বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার হলেও দাম্পত্যকলহে ‘শেষ’ শব্দটি এখনই বসানো যাচ্ছে না। বরং আদালতের নথি থেকে বেরিয়ে বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধে। এক দিকে সুনীতার বিস্ফোরক দাবি, অন্য দিকে গোবিন্দের পাল্টা বার্তা— আর মাঝখানে কোমলকে ঘিরে নতুন জল্পনা।
