শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি-র সুপরিকল্পিত বণ্টন নিশ্চিত করতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। মন্ত্রকের সচিব ড. নীরজ মিত্তাল সম্প্রতি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহারের নতুন বরাদ্দ সম্পর্কে অনেকগুলি নির্দেশিকার উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে ফার্মা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পলিমার, কৃষি, স্টিল, সেরামিক এবং ইউরেনিয়াম সহ নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ক্ষেত্রকে তাদের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের আগের ব্যবহার করা বাল্ক এলপিজি-এর ৭০% সরবরাহ করা হবে। এই বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে দৈনিক ০.২ টিএমটি-এর একটি সামগ্রিক সেক্টরাল সিলিং বজায় রাখা হবে। গত ১৬ থেকে ২৭ মার্চের আলোচনা অনুযায়ী জানানো হয়েছে, যে সমস্ত শিল্প ইউনিট পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস সংস্কারের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে, তাদের জন্য আরও ১০% অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকবে। শিল্প ইউনিটগুলোকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি পরিকাঠামো ব্যবহারে উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, যেসব শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ার অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে এলপিজি ব্যবহৃত হয়, তাদের বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ধরণের ক্ষেত্রগুলির জন্য পিএনজি সংযোগের আবেদনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজি-র দাম বাড়ছে। ভারতের এলপিজি আমদানির বড় অংশ (৯০%) হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। মাত্র এক মাসে সম্প্রতি সেই আমদানি ৪৫% কমে গিয়েছিল (২.০৪ থেকে ১.১২ মিলিয়ন টন)। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (OMCs) মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচ বহন করে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে চাইছেন। রাজ্যগুলোকে ‘পেট্রোলিয়াম ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার, ২০২৬’ এবং সিবিজি নীতি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে জ্বালানি পরিকাঠামো শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
