প্রথম বার ঘুরতে গিয়েছিলেন লাদাখে। কিন্তু, সেই সফর মোটেই সুখের ছিল না। পাহারের স্নিগ্ধ পরিবেশে ভ্রমণ করতে গিয়ে শারীরিক ধকল হয়েছে প্রবল। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন টেলিভিশন অভিনেত্রী হিনা খান। জানিয়েছেন, ওই উচ্চতা তাঁর জন্য ছিল “সহ্যশক্তির পরীক্ষা”। অভিনেত্রীর দাবি, লাদাখে থাকাকালীন প্রতিদিনই তাঁর নাক দিয়ে রক্ত পড়ত।
লাদাখ সফরের বেশ কিছু ছবি ও মুহূর্তের ঝলক ভাগ করে হিনা জানান, এই সফর তাঁকে জীবনকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শিখিয়েছে এবং বুঝিয়েছে, কখনও কখনও জীবনে একটু ধীর হওয়াও কতটা জরুরি। তিনি লেখেন, “এটাই আমার প্রথম লাদাখ সফর। লাদাখ মোটেই সহজ নয়, যেন সহ্যশক্তির পরীক্ষা। এই অঞ্চল জীবন সম্পর্কে আপনাকে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। আপনাকে বোঝায়, আপনি কতটা তুচ্ছ। পাহাড়গুলি আপনাকে ধীর হতে শেখায়। লাদাখে আমার অভিজ্ঞতা এবং সেখানে যাওয়ার সময় যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখা উচিত, সেগুলি ভাগ করে নিচ্ছি।”
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী লাদাখের মতো উচ্চতাবিশিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকাও দিয়েছেন। বিশেষত পরিবেশের সঙ্গে সঠিক ভাবে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের কথা বলেছেন। খুব উঁচু প্রত্যন্ত এলাকায় ভ্রমণের সময় সতর্কতা হিসেবে সঙ্গে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কিছু ওষুধের নামও উল্লেখ করেছেন, যা উঁচুতে অসুস্থতা এড়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে এর ডোজ়ের বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
লাদাখের দ্রুত বদলে যাওয়া তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে একাধিক স্তরের পোশাক পরার পরামর্শও দিয়েছেন হিনা। সঙ্গে রাখার তালিকায় তিনি পাল্স অক্সিমিটার ও ডিজিটাল থার্মোমিটারের কথা উল্লেখ করেছেন।
লাদাখের অত্যন্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, পুরো সফর জুড়েই নাক দিয়ে রক্ত পড়েছিল তাঁর। হিনা লেখেন, “ভাগ্যিস! আমাদের কারও উচ্চতাজনিত কোনও অসুস্থতা হয়নি এবং অক্সিজেনেরও প্রয়োজন পড়েনি। আমরা যথাযথ সতর্কতা নিয়েছিলাম। কিন্তু এই পাতলা, শুষ্ক বাতাস শরীরে প্রভাব ফেলে। নাকের ভিতরে রক্ত জমাট তৈরি হওয়ার কারণে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত প্রতিদিনই আমার নাক থেকে রক্ত পড়েছে। তাই সঙ্গে স্যালাইন নেজ়াল স্প্রে এবং নেজ়াল ময়শ্চারাইজ়ার, জেল বা তেল রাখুন। এগুলি উচ্চতায় থাকা শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে নাকের ভিতরের অংশকে সুরক্ষিত রাখে এবং আরাম দেয়।”
এ ছাড়া দীর্ঘ স়ড়কপথের জন্য সঙ্গে টিস্যু, হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার, টয়লেট সিট স্যানিটাইজ়ার রাখার কথাও তিনি বলেন। অনেক সময়েই রাস্তায় ভাল শৌচাগার না পাওয়া যেতে পারে, সেই সময়ে এগুলি কাজে লাগে। এ ছাড়াও ধুলো থেকে চোখমুখ সুরক্ষিত রাখতে রোদচশমা, দীর্ঘক্ষণ চলার মতো পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখার পরামর্শ দেন। যাঁদের শ্বাসকষ্টের জন্য ওষুধ প্রয়োজন, তাঁদের জন্য পোর্টেবল নেবুলাইজ়ার রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
