এ দেশের রকসঙ্গীতে অন্যতম নাম রূপম ইসলাম। তাঁর গানের পরতে পরতে মিশে থাকে প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ। অস্থির সময়ের কথা তাঁর কণ্ঠে গান হয়ে ঝরে পড়ে মঞ্চে। গান ‘ফসিল্স’-এর জন্যই তৈরি হোক কিংবা ছবির জন্য, স্বাতন্ত্র্যই তাঁর পরিচয়। সম্প্রতি ‘নেভারমাইন্ড’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই সঙ্গীত পরিচালনা করেছি। কখনও না বলিনি। নতুন ছবির কাজ দেখে অনেকের মনে আসলে অন্য প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সুযোগ এত কম পাই কেন। তাঁদের মনে এই যে কনসার্ন তৈরি হয়েছে আমার কাজের প্রতি, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। মনে হয়, কাজ ভাল লেগেছে বলেই এ ধরনের প্রশ্নকে তাঁরা মনে জায়গা দিয়েছেন।যা চেয়েছি তা-ই করতে পেরেছি। গানগুলোর প্রতি সৎ থেকেছি। পরিচালক চৈতিদির সঙ্গে এক বারও মতের অমিল হয়নি। আমি এবং আমার মিউজ়িক টিম, প্রধান সহকারী শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিশেষ করে বলা দরকার, যখন ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছি, আমরা গল্পের আলাদা ক্ষেত্রগুলোর জন্য আলাদা সুর তৈরি করেছি। গানের মতোই, মূল থিমগুলো আমার রচনা। সমান্তরাল প্লটের অন্য কিছু থিম শিবাশিস রচনা করেছেন। আমি তো বলব, গান তৈরি করার থেকেও আবহ তৈরির কাজটি সিনেমা-সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আমার প্রিয়তর। তবে আর-একটা গান তৈরির নির্দেশ পেলে ভাল হত। আবহসঙ্গীত নির্মাতার দৃষ্টিতে বলছি, ‘নেভারমাইন্ড’-এর প্রথমার্ধে আর-একটি গান হলে ব্যালান্সটা বেটার হত বলে আমার মনে হয়েছে। সিনেমায় ব্যবহৃত গান যে আসলে সিনেমার আবহসঙ্গীতই, এটা মনে রাখা দরকার। এটা মনে রেখেই আমি কাজ করি।
আমি তো রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে ২০০৪-’০৫ থেকেই কাজ করছি। ব্যান্ড-এ-মাতরম করেছি। কত যে রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারক হয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। আমার নামেও রিয়্যালিটি শো হয়েছে— ‘রক-এ রূপম, তাল-এ তন্ময়’! হ্যাঁ, খানিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা বলতে পারেন। ‘সারেগামাপা’-তে বিচারক হিসেবে ডাক ২০২০ সালেই পেয়েছিলাম, তখন কোভিড চলছিল বলে রাজি হইনি। এ বার রাজি হলাম। ‘সারেগামাপা’-র ঠিক আগে সুপার সিঙ্গার-এর বিচারক হিসেবে কাজ করেছিলাম। সেটির চ্যাম্পিয়ন শুভদীপ এখন বলিউডে নিয়মিত কাজ করছে। ‘ধুরন্ধর’-এর টাইটেল ট্র্যাক ওরই গাওয়া। আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে শুভদীপ।
