রাহুল মৃত্যু রহস্য: শ্বেতার ‘দ্বিতীয় জন্ম’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অনিন্দিতা

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নাট্যকর্মী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এক উজ্জ্বল প্রাণ। কিন্তু রাহুলের এই চলে যাওয়াকে ঘিরে এখন দানা বাঁধছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে দুর্ঘটনার সময় রাহুলের সঙ্গে থাকা সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রর বেঁচে ফেরা নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র কাটাছেঁড়া। এই সংকটজনক সময়ে শ্বেতার সমর্থনে এগিয়ে এলেন অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী।

২৯ মার্চ, এক অভিশপ্ত রবিবাসরীয় বিকেলে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সাগরের ঢেউয়ে তলিয়ে যান রাহুল। তাঁর এই মৃত্যু শোক সামলাতে পারছেন না সহকর্মী থেকে ভক্তরা। একইসঙ্গে অভিনেতা, লেখক এবং থিয়েটার শিল্পীকে হারানোর যন্ত্রণায় যখন টলিউড উত্তাল, ঠিক তখনই প্রশ্নের খাঁড়া ঝুলেছে শ্বেতা মিশ্রর ওপর। সেদিন রাহুল ও শ্বেতা দুজনেই বিপদে পড়লেও শ্বেতা কীভাবে রক্ষা পেলেন, তা নিয়ে অনেক অনুরাগীই তাঁকে কাঠগড়ায় তুলছেন। শ্বেতার এই ‘দ্বিতীয় জন্ম’ যেন মুহূর্তেই অভিশাপে পরিণত হয়েছে এক শ্রেণির মানুষের কটাক্ষে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে শ্বেতার পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শ্বেতা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন এবং তাঁকে আগলে রাখা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব। অনিন্দিতার কথায়, “কে কী জানতে চায় আমি জানি না, তবে শ্বেতা আমাদের পরিবারের মতো। আমরা ওর বন্ধুরা ওকে আগলে রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও রাখব।” শ্বেতাকে নিয়ে ওঠা যাবতীয় নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে এভাবেই সুর চড়িয়েছেন তিনি।

অনিন্দিতা তাঁর পোস্টে আরও জানিয়েছেন যে, ওই দিনের ঘটনা নিয়ে শ্বেতা অবশ্যই কথা বলবেন, তবে তা সঠিক জায়গায় এবং আইনের কাছে। শ্বেতার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, “শ্বেতার শিরদাঁড়াটা খুব সোজা আর শক্ত, ও সত্যিটা বলবেই।” রাহুলের ন্যায়বিচারের দাবিতে যখন তাঁর সতীর্থরা অনড়, তখন শ্বেতার বিরুদ্ধে চলা এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা সামাজিক আক্রমণ বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অনিন্দিতা। দুর্ঘটনার সেই মুহূর্তের সঠিক তথ্য জানতে এখন তদন্তকারী সংস্থা ও শ্বেতার বয়ানের দিকেই তাকিয়ে আছেন রাহুলের প্রিয়জনেরা।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল এক অভিনেতার বিদায় নয়, বরং এক সৃজনশীল মনের অকাল সমাপ্তি। শোকের এই আবহ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই দিচ্ছেন টলিউডের এক বড় অংশ। শ্বেতা মিশ্রের সুস্থতা এবং রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনই এখন বিনোদন জগতের প্রধান কাম্য।

By nanika