টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পী মহলে। সোমবার দুপুরে তমলুক হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বেদনাদায়ক। আজ বিকেলেই তাঁর নিথর দেহ ফিরছে কলকাতায়।ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবেই। তমলুক হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর ফুসফুসের ভেতর অস্বাভাবিক পরিমাণে নোনা জল এবং বালি পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর ফুসফুস স্বাভাবিকের তুলনায় ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি তাঁর খাদ্যনালি, শ্বাসনালি এবং পাকস্থলীর ভেতরেও বালি ঢুকে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থা তখনই হয় যখন কেউ দীর্ঘক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুবে থাকেন। ধারণা করা হচ্ছে, অভিনেতা অন্তত এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় জলের নিচে ছিলেন।
এদিকে, আজ দুপুরে তমলুক থেকে রাহুলের দেহ নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে শববাহী গাড়ি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বন্ধু জয়রাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ পালোধি এবং শতরূপ ঘোষের মতো ঘনিষ্ঠরা। বিকেল নাগাদ দেহ বিজয়গড়ের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। সেখানে ‘ভোলা বসু ভবন’-এ অনুরাগীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে, এই মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রবিবার শুটিং চলাকালীন শেষ মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য এই ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। অভিনেতার মৃত্যু কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।একজন প্রতিভাবান অভিনেতার এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। শুটিংয়ের সেই ক্যামেরা ফুটেজেই কি লুকিয়ে আছে রাহুলের শেষ মুহূর্তের সত্য? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
