‘এ তো আমার জীবনের গল্প’, চিত্রনাট্য পড়ে আপ্লুত, শিবপ্রসাদ-নন্দিতার নতুন ছবিতে মিঠুন!

টলিউডের প্রায় সব পরিচালকরাই তাঁকে নিয়ে ছবি বানানোর স্বপ্ন দেখেন। চিত্রনাট্য যদি মনে মতো হয় তিনি বাংলা ছবি করতে সবসময় রাজি। বলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করেও তিনি বাংলাকে ভোলেননি। হিন্দি ছবির পাশাপাশি প্রতি বছরই বাংলায় এসে ছবি করেছেন, তিনি মিঠুন চক্রবর্তী। এবার শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন তিনি। আগামী বছর উইন্ডোজ়ের পঁচিশ বছর পূর্তিতে আসবে এই নতুন ছবি। মঙ্গলবার সব চূড়ান্ত হওয়ার পর সকলের সঙ্গে এই খবর ভাগ করে নিলেন পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

পরিচালক নিজেই এই খবর জানান সমাজ মাধ্যমে। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে উচ্ছ্বসিত হয়ে শিবপ্রসাদ বলেন, ‘‘হ্যাঁ ফাইনালি আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। আমি আর নন্দিতা দি সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। আমার তেমনই একটা স্বপ্ন ছিল — কোনও একদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করব। কারণ তাঁকে বড় হয়েছি তাঁকে পর্দায় দেখে। ‘অগ্নিপথ’, ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘দো আনজানে’, ‘ডান্স ডান্স’ — আরও কত ছবি! আবার বাংলা সিনেমায় তাঁর অসামান্য সব কাজ আমাদের বার বার মনে করিয়ে দিয়েছে, এক জন অভিনেতার কোনও ভাষা হয় না, কোনও সীমানা হয় না। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর পর্দা জুড়ে থাকা — সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার কাছে শুধু একজন তারকা নন, এক অদ্ভুত বিস্ময়। আমার কাছে উনিই রামকৃষ্ণ, উনিই মৃগয়া, উনিই ডিস্কো ডান্সার।’’

মিঠুন চক্রবর্তীকে নিজে চিত্রনাট্য পড়ে শুনিয়েছিলেন শিবপ্রসাদ। সেই অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘কিছু কিছু অপেক্ষা বোধহয় ঠিক গল্পটার জন্যই থেকে যায়। যেদিন ওঁর সঙ্গে দেখা করে গল্পটা শোনালাম, বুকের ভিতর কোথাও সেই ছোটবেলার আমিটা বোধহয় তখনও চুপ করে বসেছিল। গল্প বলা শেষ হতেই মিঠুনদা হাত মিলিয়ে বললেন -“ফাটিয়ে দিয়েছিস!

এর আগে আমেরিকায় থাককালীন পরিচালক মিঠুনকে যোগাযোগ করেছিলেন। নিজের পরিচয় দিয়ে একটা ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলেন তিনি। যা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। সেদিন কী বলেছিলেন তিনি? পরিচালক বলেন —সেদিন মিঠুনদা কল ব্যাক করে বলেছিলেন “শিবু! নিজেকে শিবপ্রসাদ বলে এত বড় ফিরিস্তি দিচ্ছিস কেন? বসে আছি তো কাজ করব বলে!”

By Paromita