কৃষিতে লৌহ আকরিকের অবশিষ্টাংশ ব্যবহারে নতুন গবেষণা

আর্সেলর মিত্তাল নিপ্পন স্টিল ইন্ডিয়া (এএম/এনএস ইন্ডিয়া) এবং আইসিএআর-ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইসিএআর-আইএআরআই) কৃষিক্ষেত্রে আয়রন ওর টেলিংস (আইওটিএস)-এর টেকসই ব্যবহারের বিষয়ে গবেষণার জন্য মউ  স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগ সার্কুলার ইকোনমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এএম/এনএস ইন্ডিয়া-এর R&D বিভাগের প্রধান ড. বিশ্বনাথন এন. এবং আইসিএআর-আইএআরআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর (রিসার্চ) ড. সি. বিশ্বনাথন মউ স্বাক্ষর করেন। উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর-আইএআরআই-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ও প্রকল্পের প্রধান তদন্তকারী ড. ভূপিন্দর সিং-সহ দুই প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকরা। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া প্রাথমিক গবেষণায় দেখা যায়, লৌহ আকরিকের বেনিফিকেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন আইওটিএস-এ সিলিকা, আয়রন অক্সাইড, অ্যালুমিনা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন উপকারী খনিজ রয়েছে। নয়াদিল্লি ও ছত্তিশগড়ের কিরান্দুলে পরীক্ষায় ধান, গম ও সবজি চাষে এর ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা গেছে।

নতুন মউ -এর আওতায় আইএআরআই, নয়াদিল্লি এবং কিরান্দুলে একাধিক মরশুম ধরে গবেষণা চালিয়ে ফসলের প্রতিক্রিয়া, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, ফাইটোটক্সিসিটি, লিচিং বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। লক্ষ্য হল আইওটিএস-এর নিরাপদ কৃষি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি মজুতের প্রয়োজন কমানো। এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, রাসায়নিক সারের আমদানি কমানো এবং ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিকে সমর্থন করবে। অবক্ষয়িত মাটিতে আয়রনের ঘাটতি পূরণ এবং কৃষিজ পণ্যে আয়রনের পরিমাণ বাড়িয়ে বায়োফর্টিফিকেশনেও এর সম্ভাবনা রয়েছে।

এএম/এনএস ইন্ডিয়া -এর ডিরেক্টর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট–টেকনোলজি হিরু ইশিবাশি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে আইওটিএস-এর সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উপজাত মজুতের পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং টেকসই কৃষি ও সম্পদ সংরক্ষণে সহায়তা করাই উদ্যোগটির লক্ষ্য। ড. ভূপিন্দর সিং জানান, প্রাথমিক গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় কৃষিগত কার্যকারিতা, পরিবেশগত নিরাপত্তা ও পুষ্টি উপাদানের গতিশীলতা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই উদ্যোগ এএম/এনএস ইন্ডিয়া -এর স্থায়িত্ব কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি স্টিল স্ক্র্যাপ পুনর্ব্যবহার, স্টিল স্ল্যাগকে “আকর” ব্র্যান্ডেড অ্যাগ্রিগেটে রূপান্তর, জিরো লিকুইড ডিসচার্জ -এর মাধ্যমে জল পুনর্ব্যবহার এবং ৯০ শতাংশের বেশি উৎপাদন-উপজাত পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের মতো উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছে।

By Business Bureau