লাইভে ‘চিকনি চামেলি’ গেয়েই ট্রোলড শ্রেয়া ঘোষাল; পাশে দাঁড়ালেন লগ্নজিতা-পৌষালীরা

সম্প্রতি এক পডকাস্টে শ্রেয়া ঘোষাল ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আর ‘চিকনি চামেলি’র মতো গান রেকর্ড করবেন না, কারণ এই ধরনের গানের কথা মহিলাদের জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই এক লাইভ অনুষ্ঠানে সেই একই গান গেয়ে নেটিজেনদের একাংশের তোপের মুখে পড়লেন এই জনপ্রিয় গায়িকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র ট্রোলিং। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি গায়িকা নিজের কথায় অটল থাকতে পারলেন না? আবার কেউ তাঁর নাচ ও পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি।

এই গোটা ঘটনায় হতবাক ইন্ডাস্ট্রির সহশিল্পীরা। গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী বিষয়টিকে শিল্পী ও শ্রোতার সম্পর্কের খাতিরে দেখছেন। তাঁর মতে, “শ্রেয়া ওই পডকাস্টে বলেছিলেন তিনি আর নতুন করে এমন গান রেকর্ড করবেন না। কিন্তু ‘চিকনি চামেলি’ তো তাঁর ইতিমধ্যেই গাওয়া এবং প্রচণ্ড জনপ্রিয় একটি গান। লাইভ অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন, তাঁদের আবদার তো এড়ানো যায় না। শ্রোতারা যদি অনুরোধ করেন, তখন কি গায়িকা বলতে পারেন যে আমি গাইব না?” লগ্নজিতার দাবি, মঞ্চে শিল্পী হিসেবে নিজের দর্শকদের সন্তুষ্ট করাটা শ্রেয়ার দায়িত্ব।

অন্যদিকে, গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের ট্রোলিংকে ‘ক্যানসার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনা বদলায়, এটা খুবই স্বাভাবিক। অতীতে তিনি গানটি গেয়েছেন, যা জনপ্রিয় হয়েছে। এখন তাঁর মতাদর্শ বদলেছে, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু লাইভ কনসার্টে দর্শকের অনুরোধ রাখাটা একজন শিল্পীর পেশাগত দায়বদ্ধতা। কিছু মানুষ আসলে ওঁত পেতে থাকে কীভাবে শিল্পীদের ছোট করা যায়।”

পোশাক এবং নাচ নিয়ে যে কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে, তার উত্তরে পৌষালী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, অতীতে তাঁকেও শাড়ির আঁচল নিয়ে ট্রোল করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের অযাচিত কটাক্ষকে গুরুত্ব না দিয়ে শিল্পীদের নিজেদের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। নেটিজেনদের একাংশ যখন শ্রেয়াকে সুনিধি চৌহানের সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করছেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির বাকি শিল্পীরা শ্রেয়ার পেশাদারিত্বের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। শিল্পীর ব্যক্তিগত মতাদর্শ এবং মঞ্চের পরিবেশ যে আলাদা, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন টলিপাড়ার এই গায়িকারা।

By nanika