তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড আজ ঘোষণা করল যে, ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিজিসিআই) তাদের কিউডেঙ্গাকে বাজারে নিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছেন (সিটি–২০, নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস (এনডিসিটি) রুলস, ২০১৯)। কিউডেঙ্গা হল তাকেদা–র তৈরি ডেঙ্গুর টিকা। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়স্কদের শরীরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে এই টিকা দেওয়া যাবে। ভারতে ডেঙ্গুর টিকা হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি পেল কিউডেঙ্গা। আগে কারোর ডেঙ্গু হয়ে থাকলেও তিনিও এই টিকা নিতে পারবেন। এই টিকা দেওয়ার জন্য কোনওরকম প্রাক–টিকাকরণ পরীক্ষার দরকারও হবে না। ভারতে ডেঙ্গু ঠেকানোর কাজে ডিজিসিআইয়ের এই সম্মতি একটা গুরুত্বপূ্র্ণ পদক্ষেপ। কারণ ভারতে এই রোগ জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসাবেই রয়ে গেছে।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাল রোগ যা বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের সামনে বিরাট উদ্বেগের কারণ। বিশ্বের ১২৫টির বেশি দেশে এই রোগের প্রকোপ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ ডেঙ্গু রোগী রয়েছে ভারতে। ২ ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৩,০০০ এর বেশি। তবে মডেল বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে যত লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে জানা যায় আসলে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। এর জেরে মনে হয়, ভারতে সম্ভবত প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোক এই রোগে আক্রান্ত হন।৩,৪ ডাঃ মহেন্দর নায়েক, হেড অফ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মার্কেটস, বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্রমশ বেড়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু। সেজন্য ভারতের দরকার দীর্ঘস্থায়ী, প্রমাণ ভিত্তিক প্রতিরোধ। কিউডেঙ্গার সাম্প্রতিক সাত বছরের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে এই টিকা ডেঙ্গি সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গি রোগীদের ধারাবাহিক নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা দিচ্ছে ডেঙ্গি ভাইরাসের চার ধরনের প্রজাতির সংক্রমণ প্রতিরোধে। এটা সামাজিক গোষ্ঠী এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
২০২২ সালে কিউডেঙ্গা চালু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি মিলেছে। সারা বিশ্বে এই টিকার ৩২ মিলিয়নের বেশি ডোজ বিলি করা হয়েছে। ভারতে এই টিকা ব্যবহারের সম্মতি পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ এতে ভারতে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ আরও জোরদার হবে। তাকেদা-র ঐতিহ্য ২৪৫ বছরের এবং টিকার ক্ষেত্রে তাকেদা-র অভিজ্ঞতা ৭০ বছরের বেশি। এই দুই সম্পদের ওপর নির্ভর করে আমরা জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত পেশাদার, এবং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে সকলে, সহজে ও সুস্থায়ীভাবে এই চিকিৎসার সুযোগ পায়।’
